আজকের দিন তারিখ ১ মার্চ, ২০২১, সোমবার, ১৬ ফাল্গুন, ১৪২৭
সর্বশেষ সংবাদ
সম্পাদকীয় শীতার্তদের পাশে থাকুন

শীতার্তদের পাশে থাকুন


পোস্ট করেছেন: Dinersheshey | প্রকাশিত হয়েছে: ফেব্রুয়ারি ২, ২০২১ , ১২:৪৭ অপরাহ্ণ | বিভাগ: সম্পাদকীয়


ঘন কুয়াশা আর উত্তরের হিমেল বাতাসে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষ। শীতের সর্বনিম্ন তাপমাত্রায় জবুথবু হয়ে পড়েছে এ অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রা। বিশেষ করে কুড়িগ্রাম ও রাজশাহী জেলায় চলছে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ। এসব অঞ্চলে তাপমাত্রা ৫.৫-৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে নেমে আসছে। রাজধানী ছাড়া ঢাকা বিভাগের প্রায় সব এলাকায় শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়েছে। অর্থাৎ রাতের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি বা তার নিচে নেমেছে। হাড় কাঁপুনি শীতে বিশেষ করে খেটে খাওয়া মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। আক্রান্ত হচ্ছে সর্দি-কাশি-হাঁচি-জ্বর, হুপিংকাশিসহ শীতকালীন ডায়রিয়ায়। স্থানীয় প্রশাসনের পাশাপাশি বিত্তবানদেরও শীতার্তদের পাশে দাঁড়ানোর প্রয়োজন। আবহাওয়া দপ্তর বলছে, কয়েকদিনে নগরীতে শীত আরো বাড়বে। ঢাকা মধ্যাঞ্চলের আওতায় পড়েছে। রাজধানী মৃদু শৈত্যপ্রবাহের আওতায় থাকলেও প্রচণ্ড শীতে অভ্যস্ত না হওয়ায় এটুকু শীতেই বেশ বেকায়দায় পড়েছে রাজধানীবাসী। ঢাকার বাইরে পুরো রংপুর, টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, নিকলী, শ্রীমঙ্গল, খুলনা, যশোর, চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, বরিশাল ও ভোলা অঞ্চলের ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। কনকনে শীত ও হিমেল হাওয়ায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। রাতে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি পড়ছে। এতে শীতের তীব্রতা আরো বেড়ে যাওয়ায় শীতবস্ত্রের অভাবে দুস্থ ও অসহায় মানুষ বিপাকে পড়েছে। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের অবস্থা কাহিল হয়ে পড়েছে। শীত মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসনের প্রস্তুতি খুব সামান্য থাকে। পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র না থাকায় দুস্থ মানুষের দুর্ভোগ বেড়ে যায়। পার্বত্য জেলাগুলোসহ সিলেট বিভাগেও অনুভূত হচ্ছে শীতের তা-ব। আকস্মিক তাপমাত্রার হ্রাস-বৃদ্ধিসহ শৈত্যপ্রবাহের জন্য অনেকাংশে দায়ী বৈশ্বিক আবহাওয়া ও জলবায়ুর পরিবর্তন। উপমহাদেশেও আবহাওয়ার ভাবগতি বিশেষ সুবিধার নয়। আফগানিস্তান, পাকিস্তান, হিমাচল প্রদেশসহ উত্তরখণ্ডে চলছে শীতের তা-ব। হিন্দুকুশ ও হিমালয় পর্বতমালা থেকে ধেয়ে আসছে ঘন কুয়াশামালা, সুতীব্র হিমেল প্রবাহ। এ দেশেও শীতে যে কোনো দুর্যোগ-দৈবপাকে দুস্থ ও ছিন্নমূল মানুষই বিপাকে পড়ে বেশি। তাদের পক্ষে একদিকে শীতবস্ত্র ও লেপ-কম্বল কিনে শীত নিবারণ করা যেমন দুরূহ, অন্যদিকে পুষ্টিহীনতার কারণে রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতাও তাদের কম। ফলে শীতজনিত বিভিন্ন রোগে তারাই আক্রান্ত হয় বেশি। শীতার্তদের পাশে দাঁড়ানো দরকার এখনই। শীতার্তদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য জনপ্রতিনিধিদের তেমন সোচ্চার হতে দেখা যাচ্ছে না, দু-চারজন ব্যতিক্রম ছাড়া। হতদরিদ্র মানুষকে শীতবস্ত্র সরবরাহ সরকারের সামর্থ্যরে বাইরে নয়, তবে দরকার সময়োচিত উদ্যোগ গ্রহণ এবং এর যথাযথ বাস্তবায়ন। দেশে অনেক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তারাও পারে শীতার্ত দুঃখী মানুষের পাশে দাঁড়াতে। ওষুধ কোম্পানিগুলো ও চিকিৎসকদের সংগঠনগুলোও বিভিন্ন স্থানে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প করে বাড়িয়ে দিতে পারে সহযোগিতার হাত। বিত্তবানদের যৎসামান্য ভালোবাসা ও সহানুভূতিই পারে শীতার্ত মানুষের হৃদয়ে উষ্ণতার পরশ বুলিয়ে দিতে। আসুন আমরা স্ব-স্ব অবস্থান থেকে শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়াই। আগামী দুয়েকদিনের মধ্যে এ অবস্থার কোনো উন্নতির সম্ভাবনা নেই। তীব্র শৈত্যপ্রবাহের কারণে সর্বনিম্ন এই তাপমাত্রা আরো ১-২ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আপাতত আবহাওয়া অধিদপ্তর এমন আশঙ্কার পূর্বাভাসই দিচ্ছে।