আজকের দিন তারিখ ৩১শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, শুক্রবার, ১৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
সম্পাদকীয় ভূকম্পন রেডলাইনে বাংলাদেশ!

ভূকম্পন রেডলাইনে বাংলাদেশ!


পোস্ট করেছেন: Dinersheshey | প্রকাশিত হয়েছে: মে ৮, ২০২৩ , ১২:১৪ অপরাহ্ণ | বিভাগ: সম্পাদকীয়


গত ৫ মে রিখটার স্কেলে ৪ দশমিক ৩ মাত্রার ভূকম্পনের মৃদু ঝাঁকুনি খায় ঢাকার অধিবাসীরা। ভূমিকম্প এমন একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ, যার পূর্বাভাস দেওয়ার উপযুক্ত প্রযুক্তি এখনো আবিষ্কার করা সম্ভব হয়নি। বিশ্বের কোথাও ভয়াবহ ভূমিকম্প হলে তার ভিডিও-সংবাদ আধুনিক ডিজিটাল এই যুগে সকলের মুঠির মধ্যে চলে আসে। কিছুদিন পূর্বে আমরা সিরিয়া ও তুরস্কের ভয়াবহ চিত্র দেখেছি। তুরস্কের মতো আধুনিক বিশ্বের একটি দেশের ঘরবাড়ি ভেঙে পড়েছিল তাসের ঘরের মতো! গত ৫ মে রাজধানীর ভূমিকম্পের উৎস ছিল ঢাকার নিকটবর্তী দোহার হতে ১৪ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে ভূপৃষ্ঠের ১০ কিলোমিটার গভীরে। ভূমিকম্পের ভয়াবহতা বিবেচনায় দুর্যোগপ্রবণ বাংলাদেশের অপরিকল্পিত ও ঘনবসতিপূর্ণ নগরাঞ্চল নিয়ে আলোচনা কম হয় হয়নি! বিশেষ করে এ জনপদে বড় ধরনের ভূমিকম্প সংঘটিত হলে ঢাকা মহানগর মাটির সঙ্গে মিশিয়া যাবে বলে সতর্কবাণী উচ্চারণ করা হয়েছে বারংবার। নিকট অতীতে দেশে যেসকল ভূকম্পন অনুভূত হয়, তার উৎপত্তিস্থল ছিল ঢাকার বেশ দূরবর্তী অঞ্চলে। কিন্তু এবার ঢাকার অতি সন্নিকটে ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয়েছে যা ১৮৮৫ সালে মানিকগঞ্জে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্পের কথা স্মরণ করে দেয়। দুশ্চিন্তার কারণ, ঢাকার অদূরে এতটা অগভীরে (শ্যালো) ভূকম্পনের ঘটনা এটিই প্রথম। উদ্বেগের বড় কারণ হলো, ঢাকার অদূরে টাঙ্গাইলের মধুপুরে যে বৃহত ফল্ট (চ্যুতি) রয়েছে, তা কম্পনের সৃষ্টি করলে কী অবস্থা হবে ঢাকার! আশঙ্কা করা হয়, এই অঞ্চলে ৬ দশমিক ৯ মাত্রার ভূমিকম্প হলেই রাজধানীর প্রায় অর্ধেক তথা ১০ লক্ষের মতো ভবন ধসে পড়তে পারে। ভূমিকম্পে কী ধরনের মানবিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে সর্বশেষ তুরস্কের ক্ষেত্রে তা দেখেছে সমগ্র বিশ্বের মানুষ। ধ্বংসস্তূপ হতে প্রতি ১০ মিনিট অন্তর একটি করে লাশ উদ্ধার হবার দৃশ্য বাক্রুদ্ধ করেছে সকলকে। তুরস্কের মতো যেসব দেশে সাধারণত খুব বেশি ভূমিকম্প হয় না, সেসকল দেশে কোনো ভয়াবহ ভূমিকম্প হলে তা থেকে আমরা কি আদৌ কোনো শিক্ষা গ্রহণ করেছি? বিশেষজ্ঞরা বারবার সতর্ক করেছেন, ঢাকার ১০০-২০০ কিলোমিটারের মধ্যে বড় মাত্রার ভূমিকম্প হলেই ঢাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হবে আর এতে চরম মানবিক বিপর্যয় দেখা দেবে—এই সতর্কবার্তা নিয়ে আমরা কি খুব বেশি চিন্তিত হয়েছি কখনো? ঢাকার অত্যন্ত সরু-সংকীর্ণ রাস্তাঘাট দুর্যোগ-পরবর্তী উদ্ধার কার্যক্রমকে কীভাবে কঠিন ও দুষ্কর করে তুলবে তা নিয়ে ভাববার ফুরসত আছে আমাদের? আমরা কি কখনো ভাবছি যে, উদ্ধার কার্যক্রমে আমাদের রেসপন্ডিং ক্যাপাসিটি তথা সক্ষমতা কতটুকু? তুরস্কে ভূমিকম্প-আক্রান্ত প্রতিটি মানুষকে উদ্ধারে ২ কোটি টাকা ব্যয় করতে হয়েছে-আমাদের কি এই সক্ষমতা আদৌ আছে?