আজকের দিন তারিখ ২৬শে জুন, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, রবিবার, ১২ই আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
জাতীয় রমজানে চাই বিষ ও ভেজালমুক্ত ইফতারি

রমজানে চাই বিষ ও ভেজালমুক্ত ইফতারি


পোস্ট করেছেন: admin | প্রকাশিত হয়েছে: জুন ১, ২০১৬ , ১০:০২ অপরাহ্ণ | বিভাগ: জাতীয়


15...কাগজ অনলাইন ডেস্ক: রেল ইঞ্জিন, বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার, মোটর যান, নৌ-যান ও কলকারখানার পোড়া তেল ও মবিল মিশ্রিত তেল দিয়ে রমজানের ইফতার সামগ্রী ভাজার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এ ধরনের খাদ্য সামগ্রী স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্বক ক্ষতিকর। এছাড়া রাসায়নিক রং ও বিভিন্ন উপাদান মিশিয়ে ভোজ্য তেলও তৈরি করা হয়। এসব তেল দিয়ে তৈরি খাবার ক্যান্সার, কিডীন ও লিভারে জটিল রোগসহ গর্ভস্থ শিশু প্রতিবন্ধী হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বুধবার চকবাজার শাহী মসজিদের সামনে ইফতারিসহ সব ধরনের খাদ্য বিষ ও ভেজালমুক্ত করার দাবিতে মানববন্ধন করেছে পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা)সহ ১৭টি পরিবেশবাদী ও সামাজিক সংগঠন।

মানববন্ধন থেকে বলা হয়, রমজান মাসকে সামনে রেখে ব্যাপকভাবে চলছে ইফতারিতে ব্যবহৃত পণ্যের উৎপাদন, আমদানি ও মজুত কার্যক্রম। অসাধু শিল্পপতি, উৎপাদনকারী, কৃষক, ব্যবসায়ী, আমদানিকারক, মজুতদার, পাইকারী ও খুচরা বিক্রেতা অধিক মুনাফার লোভে এসব খাদপণ্যে ক্ষতিকর বিষাক্ত রাসায়নিক ও ভেজালের মিশ্রণ করে থাকে। যা আমাদেরকে ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে। আসন্ন রমজানকে সামনে রেখে জনস্বাস্থ্যের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এখনই বিষ ও ভেজালমুক্ত ইফতার সামগ্রী নিশ্চিত করতে সরকারের বিভিন্ন সংস্থা এবং সংশ্লিষ্টদের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি।

বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য বিষ ও ভেজালমুক্ত এবং পুষ্টিমানসম্পন্ন খাদ্য নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব। কিন্তু রাষ্ট্রকে আমরা এ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে দেখছি না। আমরা বঞ্চিত হচ্ছি বিষ ও ভোজালমুক্ত খাদ্যের অধিকার থেকে। এমন কোনো খাদ্যদ্রব্য নেই যাতে ফরমালিনসহ বিভিন্ন কেমিক্যাল নামের নীরব ঘাতক বিষ মেশানো হয় না। উৎপাদন থেকে বাজারজাতকরণের প্রত্যেকটি স্তরেই খাদ্যে বিষ মেশানো হচ্ছে। সহজপ্রাপ্যতা, আইন প্রয়োগ ও যথাযথ নজরদারির অভাবে এসব ঘটেই চলেছে।

বক্তারা বলেন, জনস্বাস্থ্য বিবেচনায় নিয়ে জাতীয় সংসদ কর্তৃক সুনির্দিষ্ট আইন প্রণয়ন করা হলেও সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার যথাযথ উদ্যোগ ও অঙ্গীকারের অভাব, বিষাক্ত খাদ্যের ভয়াবহ স্বাস্থ্য ঝুঁকি অনুধাবনে ব্যর্থতার ফলে আমরা জনগণ এর কোনো সুফল পাচ্ছি না। এ অবস্থা চলতে থাকলে ধীরে ধীরে আমরা পংঙ্গু জাতিতে পরিণত হবো।

প্রসঙ্গত, বিষাক্ত খাদ্যের ভয়াবহতা বিবেচনায় বর্তমান সরকার ফরমালিন নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৫, নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ প্রণয়ন করেছে। এছাড়াও রয়েছে স্পেশাল পাওয়ার অ্যাক্ট ১৯৭৪।

পবার সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী মো. আবদুস সোবহানের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন নাসফের সভাপতি ও পবার যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান ময়না, গ্রীণ মাইন্ড সোসাইটির সভাপতি আমির হাসান, গোলাম মোস্তফা লেন কিশোর সংঘের সভাপতি শেখ আলমগীর,পুরান ঢাকা নাগরিক উদ্যোগের সভাপতি নাজিম উদ্দিন, পল্লীমা গ্রীণের সদস্য সচিব আনিসুল হোসেন তারিক, গ্রীণ এনভায়রণমেন্ট মুভমেন্টের সভাপতি মনজুর আহমদ চৌধুরী প্রমুখ।