আজকের দিন তারিখ ১৮ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, মঙ্গলবার, ৪ঠা আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
জাতীয় ‘যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতি নিয়ে সরকার চাপ অনুভব করছে না’

‘যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতি নিয়ে সরকার চাপ অনুভব করছে না’


পোস্ট করেছেন: dinersheshey | প্রকাশিত হয়েছে: মে ২৫, ২০২৩ , ৪:২২ অপরাহ্ণ | বিভাগ: জাতীয়


দিনের শেষে প্রতিবেদক :  যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রক্রিয়া পরিবর্তন নিয়ে সরকার চাপ অনুভব করছে না বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। বৃহস্পতিবার (২৫ মে) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ মন্তব্য করেন। মন্ত্রী বলেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বরাবরই বলে আসছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রক্রিয়ায় এই পরিবর্তন প্রধানমন্ত্রীর অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সহায়তা করতেই করা হয়েছে। ড. মোমেন জানান, বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক নির্বাচন প্রক্রিয়ায় বাধা দিলে যুক্তরাষ্ট্র ভিসা দেবে না- এমন নীতি প্রণয়নের আগে সরকারকে গত ৩ মে জানিয়েছিল বাইডেন প্রশাসন।

সরকার এ কথা এতোদিন কেন জানাল না এ প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন সাংবাদিকদের বলেছেন, তাদের নীতি আমরা জানাবো কেন?ড. মোমেন জানান, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেন তাকে একটি ‘অপূর্ব’ চিঠি পাঠিয়েছিলেন। সেই চিঠিতে তিনি নতুন ভিসা নীতির কথা জানিয়েছিলেন। সেখানে ব্লিনকেন বলেছেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অঙ্গীকারকে শক্তিশালী করতে এই নীতি প্রণয়ন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক নির্বাচন প্রক্রিয়ায় যারা বাধা দেবে তাদের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারবে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী যা চাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্যে তা জোরালোভাবে এসেছে। আওয়ামী লীগ সরকার এ দেশে সব সময় গণতন্ত্রের ধারক ও বাহক। গত ১৪ বছরে আওয়ামী লীগ সরকার আছে বলেই একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া চলছে। দেশে হাজার হাজার নির্বাচন হয়েছে। নির্বাচনের মাধ্যমেই সরকার এসেছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিএনপি ১ কোটি ২৩ লাখ ভুয়া ভোটার করেছিল। এটি ঠেকাতে ছবিযুক্ত ভোটার পরিচয়পত্র করা হয়েছে। কেউ কেউ অভিযোগ করে, রাতে ভোট হয়। এজন্য স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স চালু করা হয়েছে। শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, নির্বাচন কমিশন নির্বাচন পরিচালনা করবে। সরকার তাতে সহযোগিতা করবে। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সরকারি ও বিরোধী দল, নাগরিক সমাজ, এনজিও, আইএনজিও সবার সহযোগিতা দরকার। যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে এ বিষয়গুলো এসেছে। সেই সঙ্গে বলেছে, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগ্রহ সেটাকে শক্তিশালী করতেই আমরা এটি করেছি। এটি বাংলাদেশের জন্য ভালো।

সরকারের ওপর চাপ বাড়লো কি না—জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন সাংবাদিকদের বলেন, আমরা জ্বালাও-পোড়াও চাই না। আমি বিশ্বাস করবো, জ্বালাও-পোড়াও দলরা একটু সচেতন হবে। এই জ্বালাও-পোড়াও আর রাস্তা দখল করে আন্দোলন—ওগুলো হবে না। আইনানুগ নিয়মে তারা যদি করেন সরকার সহযোগিতা করবে। মোমেন বলেন, বিরোধীরা সরকারি ও বেসরকারি সম্পদ ধ্বংস জ্বালাও-পোড়াও করে। গতবার ৩৮০০টি গাড়ি, ২৭টি বগি জ্বালিয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, আমরা গণতান্ত্রিক সরকার, জনগণের ওপর নির্ভরশীল আমাদের অবস্থানকে আরও শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করিয়েছে। আমরা স্বচ্ছ ও সুন্দর নির্বাচন করবো। মন্ত্রী আরও বলেন, এই নীতি সরকারের ওপর বাড়তি চাপ না। তারা তাদের কাজ করেছে। আমরা আমাদের কাজ করবো। প্রসঙ্গত, বুধবার (২৪ মে) মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন এক বিবৃতিতে জানান, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তারা নতুন ভিসা নীতি ঘোষণা করেছে। এতে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে যে বাধা সৃষ্টি করবে, তাদের ভিসার না দেওয়ার সিদ্ধান্ত এসেছে।