আজকের দিন তারিখ ২০শে জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, বুধবার, ৬ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
/////হাইলাইটস///// ২৮ জানুয়ারির মধ্যে ভ্যাকসিন রফতানি করবে ভারত

২৮ জানুয়ারির মধ্যে ভ্যাকসিন রফতানি করবে ভারত


পোস্ট করেছেন: dinersheshey | প্রকাশিত হয়েছে: জানুয়ারি ৬, ২০২১ , ১০:৫৮ পূর্বাহ্ণ | বিভাগ: /////হাইলাইটস/////


দিনের শেষে ডেস্ক :   ভারত বাংলাদেশের কাছে পূর্বনির্ধারিত সময়ে ভ্যাকসিন রফতানি করবে কি না তা নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে চলছে ব্যাপক আলোচনা। ক্ষণে ক্ষণে বক্তব্য বদলাচ্ছেন এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা, ফলে বিভ্রান্তি বাড়ছে বিষয়টিতে। মানুষ কার কথা বিশ্বাস করবে, সত্য কোনটা তা জানতে হয়তো অপেক্ষা করতে হবে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত। তবে গত দু’দিন নেতিবাচক খবর বেশি থাকলেও মঙ্গলবার আশার পাল্লাই বেশি ভারী দেখা যাচ্ছে। সবশেষ বিবিসি বলছে, আগামী দু’তিন সপ্তাহের মধ্যেই বাংলাদেশকে ভ্যাকসিন দেবে ভারত। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে সংবাদ মাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, দেশে টিকা প্রয়োগ শুরুর ১৫ দিনের মধ্যে স্থানীয়ভাবে তৈরি করোনভাইরাস ভ্যাকসিন রফতানি শুরু করবেন তারা। এসময় স্থানীয় চাহিদা পূরণে ভারত যে ভ্যাকসিন তৈরি করছে তা রফতানি নিষিদ্ধ করা হবে বলে যে খবর বেরিয়েছে এই কর্মকর্তা তা অস্বীকার করেছেন।

ভারত সারা বিশ্বে প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিনের প্রায় ৬০ শতাংশ তৈরি করবে। ভারতে তৈরি এই ডোজ পাওয়ার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে অনেক দেশ। ভারত চলতি জানুয়ারিতেই টিকা প্রয়োগ শুরুর করার লক্ষ্যে দুটি ভ্যাকসিনের জরুরি ব্যবহারের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দিয়েছে। জুলাইয়ের মধ্যে প্রায় ৩০ কোটি মানুষকে টিকা দেয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে দ্বিতীয় বৃহত্তম জনসংখ্যার দেশ ভারত।

দেশটির ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা যে দুটি ভ্যাকসিন প্রয়োগের বিষয়ে সবুজ সংকেত দিয়েছে তার মধ্যে একটি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও অ্যাস্ট্রাজেনেকার উদ্ভাবিত কোভিশিল্ড এবং অন্যটি স্থানীয় সংস্থা ভারত বায়োটেকের কোভ্যাক্সিন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওই কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন, কভিড ভ্যাকসিনের বিষয়ে অন্যান্য দেশকে সহায়তা করার যে প্রতিশ্রুতি ও পরিকল্পনা সেখানে থেকে বিচ্যুত হয়নি ভারত। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা বিবিসিকে বলেন, ভ্যাকসিন প্রয়োগ শুরুর পনেরো দিনের মধ্যে (পক্ষকাল) আমরা আমাদের কিছু ডোজ দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশী দেশে রফতানির অনুমতি দেব। এর মধ্যে কয়েকটি চালান আমরা উপহার হিসেবে দেব অন্যগুলো সরকারের প্রায় কেনা দামেই রফতানি করার অনুমতি দেয়া হবে।

এদিকে, ভারতের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য সচিব রাজেশ ভূষণ জানিয়েছেন, চলতি মাসের মাঝামাঝি তারা করোনা ভ্যাকসিন প্রদান কর্মসূচি শুরু করতে পারেন। তিনি বলেছেন, জরুরি ব্যবহারের অনুমতিপ্রাপ্তির ১০ দিনের মধ্যে এ কর্মসূচি শুরু হবে। এই হিসাবে, ভারতে ভ্যাকসিন প্রদান কর্মসূচি শুরু হতে সর্বোচ্চ ১০ দিন এবং এর দুই সপ্তাহ পরে রফতানি শুরু হলে বাংলাদেশে ভ্যাকসিন আসতে পারে আগামী ২৪ দিনের মধ্যে। ভারতের ভ্যাকসিন রফতানি নিয়ে বিভ্রান্তি দূর করেছেন এশিয়া অঞ্চলে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার তৈরি করোনা ভ্যাকসিনের উৎপাদক সিরাম ইনস্টিটিউটের প্রধানও। যদিও পরপর দুই দিন তিনি দুই রকমের কথা বলেছেন। সিরামের সিইও আদর পুনাওয়ালা বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমকে প্রথমে বলেছিলেন, আগামী কয়েকমাস তাদের ভ্যাকসিন রফতানির অনুমতি দেবে না ভারত সরকার। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে তিনি জানিয়েছিলেন, ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারেও ভ্যাকসিন বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে তাদের ওপর।

তবে মঙ্গলবার এ ভারতীয় ব্যবসায়ী বিবিসি’কে বলেছেন, বিদেশে সরকারের করোনা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির আওতায় ভ্যাকসিন রফতানির অনুমতি রয়েছে সিরাম ইনস্টিটিউটের। এর ফলে, চুক্তি মোতাবেক আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই বাংলাদেশ, সৌদি আরব এবং মরক্কোকে ভ্যাকসিন সরবরাহ করতে পারবেন তারা। সোমবার আদর পুনাওয়ালা আরও জানিয়েছিলেন, সিরাম ইনস্টিটিউট শুধু বিদেশের সরকারগুলোকেই ভ্যাকসিন দিতে পারবে। এক্ষেত্রে প্রথম ১০ কোটি ভ্যাকসিন বিক্রি হবে বিশেষ দামে (২ দশমিক ৭৪ মার্কিন ডলার), এর পরেরগুলোর দাম অনেক বেশি হবে।

গণমাধ্যমের খবর অনুসারে, বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই ভারতের কাছে তিন কোটি ভ্যাকসিনের অর্ডার করেছে। চুক্তি অনুসারে, ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু করে আগামী ছয় মাস প্রতি মাসে ৫০ লাখ করে ডোজ পাবে বাংলাদেশ। এর মূল্য হিসেবে গত রোববার অগ্রিম ৬০০ কোটি টাকা পাঠিয়ে দেওয়ার কথাও জানিয়েছে দেশের সরকার।