আজকের দিন তারিখ ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২১, রবিবার, ১৫ ফাল্গুন, ১৪২৭
সর্বশেষ সংবাদ
সম্পাদকীয় হকার পুনর্বাসনে উদ্যোগ নিন

হকার পুনর্বাসনে উদ্যোগ নিন


পোস্ট করেছেন: Dinersheshey | প্রকাশিত হয়েছে: জানুয়ারি ৩১, ২০২১ , ১:০৩ অপরাহ্ণ | বিভাগ: সম্পাদকীয়


ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের মার্কেটগুলো বেশিরভাগই বিভিন্ন সময় তৈরি করা হয়েছিল হকারদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে। মার্কেটগুলোতে কিছু হকার দোকান পেলেও বেশিরভাগ দোকানই বরাদ্দ পেয়েছেন প্রভাবশালীরা। প্রকৃতপক্ষে যেসব হকার এসব মার্কেটে পুনর্বাসিত হওয়ার কথা ছিল, তারা কেউই পুনর্বাসিত হননি। এতে করে ফুটপাত ও রাস্তা দখল করে পসরা সাজিয়ে বসেছে তারা। ফলে রাজধানীতে হকার সমস্যার সমাধান হয়নি। বিশেষ করে গুলিস্তান ও মতিঝিল এলাকায় এ চিত্র ভয়াবহ। গতকাল ভোরের কাগজে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে। সম্প্রতি সিটি করপোরেশনের মার্কেট ও হকার পুনর্বাসনের বিষয়ে গণমাধ্যমে কথা বলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফরিদ উদ্দিন আহমেদ রতন। তার বক্তব্যের সূত্র ধরেই ফুলবাড়িয়া সুপার মার্কেট-২, নগর প্লাজা ও গুলিস্তানের ঢাকা ট্রেড সেন্টার বরাদ্দে নানা অনিয়মের খবর প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। জানা গেছে, ঢাকা ট্রেড সেন্টার সরকারদলীয় একজন সংসদ সদস্যের কাছে যেন সোনারখনি। মার্কেটটির মালিক সমিতির শীর্ষ নেতাও এই সংসদ সদস্য। তিনি প্রভাব খাটিয়ে তার তিন সন্তানকে ক্ষতিগ্রস্ত হকার দেখিয়ে ডিএসসিসির তিনটি দোকান বরাদ্দ নিয়েছিলেন। এটি একটি মাত্র উদাহরণ। এমন ঘটনা দুই সিটি করপোরেশনের আওতায় নির্মিত মার্কেটগুলোতে তদন্ত করলে অসংখ্য অনিয়মের ঘটনা বের হবে। জানা যায়, হকারদের পছন্দ গুলিস্তান ও এর আশপাশের এলাকা। গুলিস্তানে যখনই হকারদের দৌরাত্ম্য বেড়েছে, তখনই একেকটি মার্কেট নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা সিটি করপোরেশন (ডিসিসি)। এসব মার্কেটের সব দোকান কখনোই প্রকৃত হকাররা বরাদ্দ পায়নি। বেশিরভাগ দোকানই প্রভাবশালীরা বরাদ্দ পেয়েছে। আবার হকাররা দোকান পেলেও দোকানের সালামির টাকা জমা না দিয়ে তারা বরাদ্দের কাগজগুলো বিক্রি করে দিয়েছে। প্রভাবশালীরা সেসব বরাদ্দপত্র কিনে মালিক বনে গেছে। ফলে ছিন্নমূল হকাররা দোকানের মালিক হতে পারেনি। এ ছাড়া একেকটি মার্কেট বানিয়ে হকারদের দোকান বরাদ্দ দেয়ার পর ফাঁকা হওয়া ফুটপাত ও রাস্তায় আগের চেয়ে কয়েকগুণ হকার সেখানে বসে পড়েছে। সরকার হকার পুনর্বাসনে বারবার উদ্যোগ নিলেও তা সফলতা আসেনি। হকারও রাস্তায় পড়ে আছে। কিছু সুবিধাবাদী প্রভাবশালী মহল আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়েছে। এমনকি হকাররা রোদ-বৃষ্টিতে ভিজে ফুটপাতে ব্যবসা করলেও তাদের আয়ের একটি বড় অংশ চাঁদাবাজদের পকেটে চলে যায়। এটা খুবই দুঃখজনক। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের এই দিকে নজরদারি দরকার। ডিএমপি রাস্তায় যানজট কমাতে নগরীর রাস্তা ও ফুটপাত হকারমুক্ত করার নির্দেশ দিচ্ছে বারবার। বিশেষ করে রমজানে তাদের তৎপরতা লক্ষ্য করা যায়। তবে নির্দেশনা দেয়া হলেও তা কাজে আসে না। একাধিকবার সিটি করপোরেশনের নেতৃত্বে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হলেও পরে আবারো ফুটপাত চলে যাচ্ছে হকারদের দখলে। নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, হকারদের পুনর্বাসন না করে তাদের উচ্ছেদ করলে এই অবস্থার পরিবর্তন হবে না। চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্য রোধ করতে আইনের কঠোর প্রয়োগ দরকার। সেই সঙ্গে সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে রাজস্ব আদায় বাড়ানো ও হকারদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থাও করতে হবে। পাশাপাশি যেসব মার্কেট বেহাত হয়ে গেছে তাও দ্রুত উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নজর দেবে নিশ্চয়ই।