আজকের দিন তারিখ ২৯শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, রবিবার, ১৪ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
লাইফ স্টাইল শীতের প্রস্তুতি এখনই

শীতের প্রস্তুতি এখনই


পোস্ট করেছেন: dinersheshey | প্রকাশিত হয়েছে: নভেম্বর ১০, ২০২০ , ১১:৫৩ পূর্বাহ্ণ | বিভাগ: লাইফ স্টাইল


দিনের শেষে ডেস্ক :  ঋতুচক্রের পালাবদলে এখস হেমন্ত। ঘাসের ডগায় জমে থাকা শিশির বিন্দু প্রকৃতিকে জানিয়ে দিচ্ছে শীতের পূর্বাভাস । অসহ্য গরমকে বিদায় জানিয়ে নগরবাসী প্রস্তুতি নিচ্ছে শীতের। প্রায় সকলেই শীতের প্রস্তুতি বলতে পোশাককে প্রাধান্য দিলেও এর পাশাপাশি আরও বেশ কিছু জিনিসের প্রতি লক্ষ রেখে প্রস্তুতি নেওয়া উচিত। অনেকে জানেনই না শীতের সঠিক প্রস্তুতি নিয়ে। তাই এবার জেনে নিন শীতকে ঘিরে নানা প্রস্তুতির কথা।

পোশাক আশাক

বছরের প্রায় অর্ধেকটা সময় শীতের পোশাক পরে থাকে আলমারিতে দীর্ঘদিন ব্যবহার না করায় ধুলোবালি, ময়লা ও জীবাণু জমে তাতে।  তাই ব্যবহারের পূর্বে ভালোভাবে ধুয়ে রোদে শুকিয়ে নেবেন। উলের কাপড়ের ক্ষেত্রে ডিটারজেন্ট ব্যবহার না করে শ্যাম্পু ব্যবহার করুন, এতে কাপড় নরম থাকবে। এছাড়া লেদারের জ্যাকেটগুলো ড্রাইওয়াশ করে নেবেন, ভুলেও ঘরে পরিষ্কার করতে যাবেন না। এছাড়া সব সময় আলমারি কিংবা ড্রয়ারে শীতের পোশাক রাখার আগে ন্যাপথলিন দিয়ে রাখুন। এতে পোকামাকড় আক্রমণ করবে না। শীত অল্প সময় থাকলেও শীতের পোশাক মানেই ফ্যাশনেবল কিছু। বিশেষ করে ফ্যাশন সচেতন মানুষের কাছে শীতের সময়টা বেশ আনন্দের। বিভিন্ন শপিংমল ঘুরে দেখা যায় প্রতি বছরের মতো এবারও  শীতের পোশাকে থাকছে বাহারি ডিজাইন। ইতিমধ্যে ক্রেতাদের ভিড় লেগে গেছে কোট, জ্যাকেট, ব্লেজার ও সোয়েটার বাজারে। ডিজাইনারদের মতে শীতের পোশাকে আমাদের দেশ পশ্চিমা প্যাটার্ন ও ট্রেন্ড অনুকরণ করলেও ফেব্রিক্সগুলো দেশের আবহাওয়া উপযোগী করে তৈরি করা হচ্ছে। বাজার ঘুরে জানা যায়, সবার চাহিদা সামনের অংশ খোলা এমন শীত পোশাক  যাতে ভেতরের পোশাক দেখা যায়। তবে বোতাম দেওয়া শীত পোশাক গত কয়েক বছর খুব একটা নজরে পড়ছে না। এবারও তার ব্যতিক্রম নয়। কাটের ক্ষেত্রে গত বছরের তুলনায় খানিকটা বৈচিত্র্য দেখা যাচ্ছে এবার। গলা বড় ও অসমান কাটের সোয়েটার সবাই বেছে নিচ্ছে বলে জানান দোকানিরা। তুলনামূলক পাতলা, হালকা লেদার, উলের পাতলা সোয়েটার, জিন্স, মখমলের ব্লেজার, মোটা তাঁতের শাল, চাদর, উলের মাফলার ও কানটুপি, লেদার জ্যাকেট, হুডি জ্যাকেট, গ্যাবার্ডিন কাপড়ের ব্লেজার এছাড়া মেয়েদের রঙিন কিছু শীত স্কার্ফ ট্রেন্ড চলবে বেশি। রঙের ক্ষেত্রে নিউট্রাল কালার যেমন বাদামি, ধূসর, কালো এসব রঙের প্রাধান্য থাকবে উজ্জ্বল রঙের তুলনায়। শীতের পোশাক কেনাকাটায় আপনি যেতে পারেন বঙ্গবাজার, নিউ মার্কেট, গাউছিয়া, নুরজাহান, ইনফিনিটি, ক্যাটস আই, মিরপুর, উত্তরা, টুয়েলভ, রেলুসে, নয়ের, যমুনা ফিউচার পার্ক, বসুন্ধরা সিটি কমপ্লেক্স, ধানমণ্ডির বিভিন্ন শপিংমলে পেয়ে যাবেন আপনার পছন্দের শীতের পোশাক। এছাড়া দেশীয় ফ্যাশন হাউজ আড়ং, বিশ্বরঙ, রং বাংলাদেশ, নগরদোলা, সাদাকালো, বিবিয়ানাসহ বিভিন্ন দেশীয় হাউজে এসেছে শীতের পোশাকের বিশাল সমারোহ।

ঘরের প্রস্তুতি

শীতের তীব্র ঠাণ্ডা বাতাস যাতে ঘরে প্রবেশ করতে না পারে তাই শীত আসার আগেই ঘরের দরজা, জানালা এবং অপ্রয়োজনীয় ফাঁকা জায়গা বন্ধ করে  দিন। মোটা কাপড় কিংবা প্লাইউড শিট দিয়ে এটি করতে পারেন। শীতে যেহেতু ঘরের মেঝে ঠাণ্ডা হয়ে যায় তাই ফ্লোর ম্যাট,  ভারী কার্পেট কিংবা মাদুর ব্যবহার করতে পারেন। তবে কার্পেট ব্যবহার না করাই ভালো কেননা এতে ধুলাবালি খুব দ্রুত জমে যায় আর পরিষ্কার করাও ঝামেলার। গরমে জানালার  হালকা পাতলা পর্দা সরিয়ে লাগিয়ে নিন ভারী ও কয়েক পরতের উজ্জ্বল পর্দা। এতে ঘর গরম থাকবে। তাছাড়া দিনের বেলায় যতটুকু পারবেন সূর্যের তাপ ঘরে প্রবেশের জন্য জানালা খোলা রাখুন ও পর্দা সরিয়ে রাখুন। যাতে সূর্যের তাপ ঘরকে গরম রাখে। এছাড়া শীত আসার আগে দেখে নিন রুম হিটার, ওয়াটার হিটার, গিজার এসব যন্ত্রপাতি ঠিক আছে কি না। এছাড়া বাড়িতে থাকা গাছগুলোর বিশেষ যত্ন নিতে হবে এ সময়। গাছগুলো যাতে পর্যাপ্ত সূর্যের আলো পায় সেদিকে খেয়াল রাখুন ও নিয়মিত গাছে পানি ও স্প্রে করুন। নতুবা শীতের শুষ্ক বাতাসে গাছে পাতা দ্রুত শুকিয়ে যাবে এবং গাছ মরে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তবে অতিরিক্ত পানি দেওয়া যাবে না। তাছাড়া খুব বেশি শীত পড়লে রাতের বেলায় গাছগুলো ঘরে ঢুকিয়ে রাখলে ভালো হয়। আর দিনে সূর্যের আলোতে  বের করে রাখুন। এছাড়া শীতে অতিরিক্ত ধুলাবালি থাকে বাতাসে তাই নিয়মিত ঘর ও আসবাবপত্র মুছে রাখুন নতুবা ময়লা জমে ফাঙ্গাস হয়ে যেতে পারে। ঘর পরিষ্কারের ক্ষেত্রে ভ্যাকুয়াম ক্লিনার ব্যবহার করতে পারেন। এছাড়া আন্টি ব্যাকটেরিয়াল লিকুইড দিয়ে ঘর মুছতে পারেন। এমনকি গাছেও নিয়মিত পানি দিয়ে স্প্রে করুন যাতে পাতায় ধুলা না জমে। এছাড়া সপ্তাহে একদিন সিলিং ফ্যান, জানালা-দরজার খাঁজ পরিষ্কার করতে পারেন। এছাড়া শীতে নিয়মিত ভালোভাবে বিছানা ঝেড়ে পরিষ্কার করে ঘুমান এবং কয়েকদিন পর পর তোশক, বালিস রোদে দিন এবং বিছানার চাদর পাল্টে নিন। আর সম্ভব হলে তোশকের নিচে নিমপাতা রাখুন এতে পোকামাকড় হবে না।