আজকের দিন তারিখ ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, বৃহস্পতিবার, ৮ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
সম্পাদকীয় লকডাউন শিথিল: বাড়ি ছুটছে মানুষ

লকডাউন শিথিল: বাড়ি ছুটছে মানুষ


পোস্ট করেছেন: Dinersheshey | প্রকাশিত হয়েছে: জুলাই ১৬, ২০২১ , ১১:৩৮ পূর্বাহ্ণ | বিভাগ: সম্পাদকীয়


ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে চলমান লকডাউন শিথিল করা হয়েছে। গতকাল থেকে আগামী ২২ জুলাই পর্যন্ত লকডাউন শিথিল করেছে সরকার। ২৩ জুলাই থেকে ফের কঠোর লকডাউন শুরু হবে। গতকাল থেকে ঘরমুখো মানুষের যে ঢল নেমেছে তাতে শঙ্কা বেড়ে যায়। গত ঈদেও হাজার হাজার মানুষ বাড়ি ফিরেছিলেন। এবারো তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না। কিন্তু এ কয়দিনের শিথিলতায় সংক্রমণ আবার কোন পর্যায়ে যাবেÑ তা ভেবে শঙ্কিত রয়েছেন চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা। গত এপ্রিল, মে, জুন ও চলতি জুলাই মাসে করোনা সংক্রমণ অত্যধিক বেড়ে যাওয়ায় দেশের এক চরম সংকটকাল চলছে। মৃত্যুর হারও যে মাত্রায় শঙ্কিত অবস্থায় পৌঁছে যাচ্ছে তাও সব মানুষের জন্য এক চরম বিপজ্জনক সংকেত। বারবার বলা হচ্ছে নিয়মকানুন শিথিল করা হলেও স্বাস্থ্যবিধি মানাটা নিজস্ব দায়বদ্ধতায় পালন করে যেতে হবে। বিপত্তি ঘটবে সেখানেই। পশুর হাটের সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের মধ্যে ইতোমধ্যে সাড়াও পড়ে গেছে বাণিজ্যিক কার্যক্রম চালু করার। কুরবানির ঈদে পশুর হাটের যে রমরমা অবস্থা, সেখানে মাত্র কয়েকদিনে তা কতখানি সামলানো যাবে তা ধারণা করা মুশকিল। এক সময় দেশে করোনার সংক্রমণ অনেকটাই নিম্নমুখী ছিল। শনাক্তের হার ৯ শতাংশের নিচে নেমে এসেছিল। সরকারের চলমান বিধিনিষেধের কারণে সংক্রমণ ও মৃত্যু কমছে। অর্থাৎ যাতায়াতের কারণে যাতে কোনোভাবেই সংক্রমণ না বাড়ে তার ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার। কিন্তু সরকারি বিধিনিষেধ মানতে নারাজ। নিজেরা যেমন সচেতন না তেমনিভাবে আরেকজনকে বিপদে ফেলছি। বারবার সরকার বলছে, করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে হলে সবাইকে ঘরে অবস্থান করতে হবে। ঘরে থাকুন, নিজে সুস্থ থাকুন এবং দেশের মানুষকে সুস্থ রাখুন করোনা প্রাদুর্ভাব ঠেকানোর এটাই হলো মূলমন্ত্র। করোনা ভাইরাসের চলমান ঢেউ শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় প্রতিদিনই নতুন শনাক্ত রোগী ও মৃত্যুর হারের ক্ষেত্রে রেকর্ড হচ্ছে। সরকারের একটি গবেষণায় জানা গেছে যে এখন সংক্রমণের ৮০ শতাংশই ভারতে প্রথমে শনাক্ত হওয়া ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট দ্বারা ঘটছে। এরপরও আমাদের ভয়ভীতি ঢুকছে না। আমাদের উদাসীনতার কারণে সংক্রমণ ও মৃত্যু দিন দিন বাড়ছে। সমাজের শ্রমজীবী মানুষ সামাজিক দূরত্ব মানছে না। মোটা দাগে পেটের দায়ে, জীবিকার চরিত্রগত কারণে এবং অন্নসংস্থানের বাসনায় কিন্তু সমাজের মধ্যবিত্ত, নিম্ন-মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্তের কিছু মানুষ সামাজিক দূরত্ব কেন মানছে না, সেটাও বিবেচনায় নেয়া জরুরি। আমাদের সামাজিক দূরত্ব মেনে না চলার অন্যতম কারণ আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল না থাকা। অর্থনৈতিক সমস্যার চেয়েও বড় সমস্যা অসচেতনতা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে পাহারায় রেখে জোর-জবরদস্তি ও জেল-জরিমানা করে নিয়মবিধি মানানো সত্যিই এক অসহনীয় এবং দৃষ্টিকটু ব্যাপার। মানুষ যদি তার নিজের ভালোটা বুঝতে না পারে, তাহলে আইন-বিধি প্রয়োগ করে কতটা সামলানো যায় তাও বিবেচনার বিষয়।