আজকের দিন তারিখ ১ মার্চ, ২০২১, সোমবার, ১৬ ফাল্গুন, ১৪২৭
সর্বশেষ সংবাদ
/////হাইলাইটস///// ভেজালের ভিড়ে আসল মদ চেনাই দায়!

ভেজালের ভিড়ে আসল মদ চেনাই দায়!


পোস্ট করেছেন: dinersheshey | প্রকাশিত হয়েছে: ফেব্রুয়ারি ২, ২০২১ , ১২:২৩ অপরাহ্ণ | বিভাগ: /////হাইলাইটস/////


 

কামরুজ্জামান খান :  দেশের বাজারে এখন ভেজাল ও নকল মদের ছড়াছড়ি। বিদেশি নামিদামি ব্র্যান্ডের সব ধরনের মদ মিলছে হাত বাড়ালেই। আসল বোতলে ভরে বিক্রি হচ্ছে ভেজাল মদ। স্পিরিট, সুগন্ধিসহ বিভিন্ন ধরনের উপাদানে তৈরি হচ্ছে ভেজাল মদ, যা নামিদামি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বিদেশি মদের বোতলে ভরে বিক্রি করছে একাধিক চক্র। এসব মদপানে ঘটছে মৃত্যুর ঘটনা। অসুস্থ হয়ে পড়ছেন মদ্যপায়ীরা।

সূত্র জানায়, ভেজাল মদ তৈরি চক্রের সদস্যরা শহরের বিভিন্ন হোটেল ও বার থেকে বিদেশি মদের বোতল সংগ্রহ করে। এরপর পানির সঙ্গে রেক্টিফাইড স্পিরিট, ঘুমের বড়ি, সুগন্ধিসহ বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক দ্রব্য দিয়ে ভেজাল মদ তৈরি করে। স্পিরিট, বোতলের কর্ক, বিভিন্ন রাসায়নিক দ্রব্য সংগ্রহ করে মদ তৈরির পর বোতলজাত করে। এরপর প্রেস থেকে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মদের লেবেল ছাপিয়ে বোতলজাত মদ পাড়া-মহল্লায় দেদার বিক্রি করা হয়। অনেক বারেও ভেজাল মদ বিক্রির অভিযোগ রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আহসানুল জব্বার বলেন, বাজারে বিদেশি মদের সংকট থাকায় একটি চক্র ভেজাল মদ তৈরি ও বিক্রি করে থাকতে পারে। তদন্ত ছাড়া এটা নিশ্চিত করে বলা যাবে না। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ের ঘটনাগুলো আমাদের নজরে এসেছে। আমরা ঘটনাগুলো তদন্ত করে দেখব। যদি কোনো বৈধ লাইসেন্সধারী ওই মদ আমদানি করে থাকেন তবে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। আর যদি অন্যরা এ কাজ করে থাকে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সূত্রমতে, গত দুই মাস ধরে ওয়্যার হাউসগুলো বন্ধ থাকায় বাজারে বিদেশি মদের সংকট রয়েছে। এই সুযোগে একাধিক চক্র পাড়া-মহল্লায় ভেজাল মদ ছড়িয়েছে। মদ বিক্রেতারা দাম নিচ্ছেন ইচ্ছেমতো। এর মধ্যে রয়েছে আসল ও ভেজালের মিশ্রণ। রাজধানীর উত্তরা ৩ নম্বর সেক্টরের একটি রেস্টুরেন্টে গিয়ে মদ্যপানের পর বিষক্রিয়ায় মারা গেছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী। এদের মধ্যে একজন তরুণ অপরজন তার বান্ধবী। ২৮ জানুয়ারি মদপানের পরদিন আনোয়ার খান মডার্ন ও সিটি জেনারেল হাসপাতালে তাদের মৃত্যু হয়।

গত শুক্রবার ঢাকার বনানীর একটি বিজ্ঞাপনী সংস্থার সহযোগী প্রতিষ্ঠানের ৪৩ জন কর্মী নিজেদের আয়োজনে গাজীপুরের সারাহ রিসোর্টে যায়। প্রতি চার বছরে একবার এ ধরনের আয়োজন করেন তারা। সেখানে মদপানের পর বিষক্রিয়ায় রবিবার দুজন ও সোমবার একজনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকার হাসপাতালে। ওই প্রতিষ্ঠানের সিইওসহ বেশ কয়েকজন বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ঢাকার বাইরে বগুড়া শহরের তিনমাথা এলাকায় একটি বিয়ে বাড়িতে বিষাক্ত মদপানে ৫ জনের মৃত্যু হয়। গত রবিবার রাতে তারা নিজ বাড়িতেই মারা যান। নিহতরা হলেন- শহরের কাটনারপাড়া এলাকার মোজাহার বাবুর্চি (৭০), চায়ের দোকানদার সাজু মিয়া (৫৫), লোকমান মিস্ত্রির ছেলে রমজান আলী (৪০), প্রেমনাথের ছেলে নিরঞ্জন সুমন (৩৮) ও ফুলবাড়ি সরকারপাড়া এলাকার আবদুল জলিল (৬৫)।

এর আগে চলতি বছর ইংরেজি নববর্ষের প্রথম প্রহরে রাজশাহীতে মদপানে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে যাওয়া ১৬ জনের মধ্যে মারা যান পাঁচজন। ঘটনার রহস্য উন্মোচন করে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি) জানায়, বেশি লাভের লোভে বিদেশি মদের সঙ্গে নানান রাসায়নিক মিশিয়ে এক বোতলকে একাধিক বোতলে পরিণত করে বিক্রি করায় বিষক্রিয়া ঘটেছে। ৩ জানুয়ারি রাতে রাজশাহী শহরের সাগরপাড়া ও সিপাইপাড়া থেকে চার অবৈধ মদ ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তারাই বিদেশি মদের সঙ্গে ভেজাল মিশিয়ে নববর্ষের রাতে বিক্রি করেছিলেন। যারা মারা গেছেন তারা সবাই এই মদ খেয়েই অসুস্থ হয়ে পড়েন।

২০১৯ সালের ১৩ আগস্ট রাতে চট্টগ্রামে মদপানে তিন যুবকের মৃত্যু হয়। এরপর তদন্তে নেমে চক্রের সন্ধান পায় পুলিশ। ভেজাল মদ তৈরির কারবারে সরাসরি জড়িত একজনসহ মোট পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে ২০১৮ সালের ২৩ মে রাত ১০টার দিকে মিটফোর্ড রোডের ২০২ নম্বর মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় অভিযান চালিয়ে অবৈধ রেক্টিফাইড স্পিরিট দিয়ে ভেজাল মদ ও হোমিও ওষুধ তৈরির কারখানাটির সন্ধান পায় পুলিশ। এ সময় কারখানাটি থেকে ৫৪১ দশমিক ২ লিটার রেক্টিফাইড স্পিরিট এবং ভেজাল মদ ও হোমিও ওষুধ তৈরির উপকরণসহ আবদুল কাদেরকে (৫৫) গ্রেপ্তার করা হয়। কারখানার মালিক মো. মাহবুব অভিযানের সময় কারখানায় ছিলেন না।