আজকের দিন তারিখ ১ মার্চ, ২০২১, সোমবার, ১৬ ফাল্গুন, ১৪২৭
সর্বশেষ সংবাদ
সম্পাদকীয় মানুষকে টিকা গ্রহণে আগ্রহী করতে হবে

মানুষকে টিকা গ্রহণে আগ্রহী করতে হবে


পোস্ট করেছেন: Dinersheshey | প্রকাশিত হয়েছে: ফেব্রুয়ারি ৮, ২০২১ , ১২:৫৯ অপরাহ্ণ | বিভাগ: সম্পাদকীয়


গতকাল থেকে সারাদেশে একযোগে টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। গণমাধ্যমে খবরে প্রকাশ, টিকা গ্রহণে মানুষের সাড়া এখনো কম। নিবন্ধন অ্যাপে গত শনিবার পর্যন্ত সাড়ে ৩ লাখের মতো মানুষ আবেদন করেছে। শুরুতে টিকা পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা, এরপর টিকার দাম নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা এবং সবশেষে টিকার বিভিন্ন দিক নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেতিবাচক প্রচারও চলেছে। এটিও আবেদন কম হওয়ার প্রধান কারণ হতে পারে। তবে এসব পরিস্থিতি সামলে নির্ধারিত সময়ে টিকাদান কার্যক্রম শুরু করাই ছিল এক ধরনের চ্যালেঞ্জ। নিশ্চয় সে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পেরেছে সরকার। সরকারের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ টিকা গ্রহণে মানুষকে আগ্রহী করে তোলা। মানুষের মধ্যে টিকা নিয়ে ভীতি দূর করতে পরিকল্পনা নেয়া। জানা গেছে, বর্তমানে স্বাস্থ্য বিভাগের হাতে অক্সফোর্ডের টিকার ৭০ লাখ ডোজ মজুত আছে। প্রত্যেককে দুই ডোজ হিসাব করে প্রথম ৩৫ লাখ মানুষকে টিকা দেয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। সেরাম ইনস্টিটিউটের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী সরকার প্রতি মাসে ৫০ লাখ ডোজ টিকা পাবে। এভাবে কেনা টিকার আরো ২ কোটি ৫০ লাখ ডোজ আসবে। আমরা জানি, করোনার ভ্যাকসিন প্রস্তুত, এর কার্যকারিতা এবং সুষ্ঠু বণ্টনের ওপর নির্ভর করছে করোনার ভবিষ্যৎ। পুরো পৃথিবীর মানুষ একটি টিকার জন্য অধীর আগ্রহে আছে। আমরাও এর বাইরে নই। টিকার পাশর্^প্রতিক্রিয়া নিয়ে নেতিবাচক খবর দেখছি। এসব নিয়ে শঙ্কাও তৈরি হয়েছে। গত ২৭ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে টিকাদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। ওইদিন টিকা নেয়া ২৬ জন এবং পর দিন টিকা গ্রহণকারী ৫৪১ জনের সবাই সুস্থ আছেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলছেন, কারা টিকা পাবে তার একটি গাইডলাইন প্রণয়ন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবের নেতৃত্বে একটি জাতীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। করোনা ভাইরাস হলো বৈশ্বিক অতিমারি। এটি একটি বৈশ্বিক সমস্যা। তাই বিশ্বকে এর সমাধানে এক সঙ্গেই কাজ করতে হবে। ভ্যাকসিনের ক্ষেত্রেও তাই। সব দেশ যেন ভ্যাকসিন পায় এবং জনগণকে করোনা ভাইরাসের হাত থেকে মুক্ত করতে পারে। আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যায় বাংলাদেশ অনেকটা স্টেডি অবস্থানে রয়েছে। ধনী ও গরিব রাষ্ট্রের পরিসংখ্যান না দেখে ভ্যাকসিনের সুষম বণ্টনের ব্যবস্থা করতে পারলে হয়তো পরিত্রাণ পাওয়া যাবে। আর যদি এই ভ্যাকসিন পাওয়ার ক্ষেত্রে ভ‚রাজনীতি জড়িয়ে পড়ে তাহলে তো ভ্যাকসিনের প্রাপ্যতা নিয়ে অনেক দেশকেই ভুগতে হবে। পৃথিবীর এ সংকটময় পরিস্থিতিতে বিশ্ব রাজনীতির শিকার হোক মানুষ এমন অবস্থা যেন দেখতে না হয়। মানবিক এ বিপর্যয়ে কোভিড-১৯ টিকা যেন সবাই পায় এবং গ্রহণে যেন উদ্বুদ্ধ হয় তা নিশ্চিত করতে হবে।