আজকের দিন তারিখ ২৫শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, রবিবার, ১০ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
সারাবিশ্ব, সারাবিশ্ব লীড জাতিসংঘোর কালো তালিকা থেকে বাদ সৌদি কেয়ালিশন

জাতিসংঘোর কালো তালিকা থেকে বাদ সৌদি কেয়ালিশন


পোস্ট করেছেন: admin | প্রকাশিত হয়েছে: জুন ৭, ২০১৬ , ৭:৫৭ অপরাহ্ণ | বিভাগ: সারাবিশ্ব,সারাবিশ্ব লীড


blackকাগজ অনলাইন ডেস্ক: ইয়েমেনে হুতি বিদ্রেহীদের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত সৌদি নেতৃত্বাধীন কোয়ালিশনের নাম জাতিসংঘের কালো তালিকাভূক্ত দেশ ও গ্রুপের তালিকা থেকে বাদ দেয়া হয়েছে। সংঘর্ষে শিশু অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে কোয়ালিশনকে কালো তালিকাভূক্ত করেছিল জাতিসংঘ।

জাতিসংঘের রিপোর্টটি প্রকাশের পর সৌদি আরব তার প্রতিবাদ করে। রিপোর্টে বলা হয়, ইয়েমেনে শতকরা ৬০ ভাগ শিশু হতাহতের জন্য দায়ী কোয়ালিশন। সৌদি আরব তার প্রতিবাদ লিপিতে বলে, হতাহতের সংখ্যা বাড়িয়ে বলা হয়েছে।

জাতিসংঘ বলছে, কোয়ালিশনকে সঙ্গে নিয়ে বিশ্বসংস্থাটি রিপোর্টে উল্লেখিত ঘটনাগুলো খতিয়ে দেখবে।

কিন্তু জাতিসংঘে নিযুক্ত সৌদি দূত জোর দিয়ে বলেছেন, কালো তালিকভূক্ত দেশের তালিকা থেকে কোয়ালিশনকে বাদ দেওয়ার যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে তা চূড়ান্ত।

মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যন রাইটস ওয়াচ এই উদ্যাগের তীব্র সমালোচনা করেছে। তারা বলছে, জাতিসংঘ প্রধানের কাযালয়ের দফতরের বিশ্বাসযোগ্যতা তলানীতে এসে ঠেকেছে।

কোয়ালিশন হউদি বিদ্রোহীদের সঙ্গে লড়াই শুরু করে ২০১৫ সালের মার্চে। এর দুই মাস আগে বিদ্রোহীরা ইয়েমেন সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে রাজধানী সানার পুরো নিয়ন্তণ নিয়ে নেয়। সৌদী আরব এবং নয়টি মুসলিম ও আরব দেশকে নিয়ে কোয়ালিশন গঠিত। কোয়ালিশনের প্রতি সমর্থন রয়েছে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের।

এরপর থেকে কমপক্ষে ৬ হাজার ২০০ ব্যাক্তি নিহত হয় ও গৃহহীন হয় ২.৮ মিলিয়ন মানুষ। জাতিসংঘের হিসেবে অনুযায়ী, নিহতদের অর্ধেকই বেসামরিক ব্যক্তি।

বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি-মুন শিশু ও সমস্ত্র সংঘাত সম্পর্কে একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেন। রিপোর্টে বলা হয়, ইয়েমেনের পরিস্থিতি খুবই উদ্বেগজনক। এতে বলা হয়, ২০১৫ সালে শিশুদের সশস্ত্র সংঘর্ষে ব্যবহার করার জন্য দলভূক্ত করার মাত্রা পাঁচ গুন বেড়ে গেছে। ২০১৪ সালের তুলনায় আহত কিংবা নিহত হওয়ার সংখ্যা বেড়েছে ছয়গুন।

গত বছর ৫১০ শিশুর মৃত্যু ও ৬৬৭ টি আহত হয় বলে উল্লেখ কলে রিপোর্টে বলা হয়, এর জন্য সৌদি নেতৃত্বাধীন কোয়ালিশনই দায়ী। তাদের বেশির ভাগই হতাহত হয় বিমান হামলায়। ১৪২ শিশু হত্যা ও ২৪৭ টির আহত হওয়ার ঘটনার জন্য দায়ী হুতি বিদ্রোহীরা। আর ৩২৪ টি ঘটনা কারা ঘটিয়েছে তা জানা যায়নি।

স্কুল ও হাসপাতালে হামলার ঘটনা ঘটেছে ১০১ টি। এর ঠিক অর্ধেকের কম ঘটনার সঙ্গে জড়িত রয়েছে কোয়ালিশন।

সোমবার জাতিসংঘে নিযুক্ত সৌদি আরবের স্থায়ী প্রতিনিধি আব্দুল্লাহ আল-মৌলামী রিপোর্টটি সম্পর্কে তার দেশের অভিযোগের কথা জানান।

কোয়ালিশনের হাতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটে থাকলে ত খুবই কম বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারা সূনির্দিষ্ট লক্ষ্য বস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম অস্ত্রশস্ত্র ব্যবহার করছে। পরে জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টেফানে দুয়ারিচ জানান, বান কি-মুন সৌদি কালো তালিকা থেকে কোয়ালিশনের নাম বাদ দেওয়ার প্রস্তাব মেনে নিয়েছেন। তবে তালিকায় উল্লেখিত হতাহতের ঘটনা ও সংখ্যা যৌথভাবে খতিয়ে না দেখা জাতিসংঘের আগের সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে।

জাতিসংঘ মহাসচিব যত তাড়াতড়ি সম্ভব জাতিসংঘের বাছাই পরিষদে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার জন্য নিউইয়র্কে একটি দল পাঠাতে কোয়ালিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। আগস্টে রিপোর্টটি পরীক্ষা নিরীক্ষা করবে পরিষদ।