আজকের দিন তারিখ ১৩ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, মঙ্গলবার, ৩০শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
/////হাইলাইটস///// এখনও করোনা পরীক্ষায় ভোগান্তি!

এখনও করোনা পরীক্ষায় ভোগান্তি!


পোস্ট করেছেন: dinersheshey | প্রকাশিত হয়েছে: মার্চ ৩১, ২০২১ , ২:৪৯ অপরাহ্ণ | বিভাগ: /////হাইলাইটস/////


দিনের শেষে প্রতিবেদক :   গত ১৬ মার্চ তানভীরুল আলমের (ছদ্ম নাম) হালকা জ্বর হয়, জ্বরের পর থেকে পেট খারাপ। গরমের কারণে এমনটা হতে পারে বলে ধরে নেন তিনি। তবে করোনা হলো কিনা এই চিন্তা থেকে গত ২৩ মার্চ তিনি মোহাম্মদপুরের জহুরী মহল্লা ব্র্যাকের বুথে করোনার টেস্ট করান। রবিবার (২৮ মার্চ) রাত ৯টা পর্যন্ত তিনি তার করোনা ফলাফল পাননি। গণমাধ্যমকমী সাইফুল্লাহ রিয়াতের জ্বর হয় গত ২০ মার্চ, গত ২৩ মার্চ তিনি মধুবাগ বুথ থেকে করোনার টেস্ট করান। এখনও ফলাফল পাননি। নমুনা ফলাফল না পেলেও গত ২০ মার্চ থেকে তাকে অফিস করতে হচ্ছে জানিয়ে তানভীরুল আলম বলেন, ‘বাসায় আইসোলশেন থাকলেও অফিস থেকে বলা হয়েছে, মনে হয় করোনা না, আপনি অফিস করেন।‘

তিনি বলেন, ‘আমি ফোন করবো কেন, এসএমএস দিয়ে আপনাদের জানানোর কথা-এই কথা বলার পর আর কোনও জবাব পাইনি।’ এরপর তিনি ‍দ্বিতীয় টেস্ট করান ১৮ মার্চ এবং সেটার ফলাফল পান গত ২০ মার্চ। গত ২৩ মার্চ হাতিরঝিলে অবস্থিত ব্রাকের আরেক বুথ থেকে করোনার নমুনা দেন আবুল হোসেন। কিন্তু তিনি ২৮মার্চ পর্যন্ত ফলাফল পাননি। তিনি বলেন, কেবল গলাব্যথা ছিল। ছয় দিনের দিন আমি নমুনা দেই। আমি খুবই বিরক্ত হচ্ছি। ইচ্ছে ছিল বেসরকারিতে গিয়ে নমুনা আবার দিয়ে আসবো। কিন্তু এত ভোগান্তিতে ক্লান্ত হয়ে গেছি। ভালো লাগছে না।‘

ভুক্তভোগীরা বলছেন, করোনা মহামারির এক বছর হয়ে গেল। গত বছরে শুরুর দিকে করোনার নমুনা পরীক্ষা করাতে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করার কথা শুনেছি, পত্রিকায়ও নানা রকম ভোগান্তির কথা পড়েছি। নমুনার ফলাফল দিতে কত দেরি হয়েছে সে খবরও গণমাধ্যমে প্রকাশিত। কিন্তু এক বছর পরেও সে অবস্থা কেন? এক বছর পরেও ভোগান্তির পুরনো চিত্রই রয়ে গেছে! তারা বলছেন, নমুনা পরীক্ষার জন্য ল্যাবরেটরি বেড়েছে। তাহলে এই পুরনো বিড়ম্বনা কেন হচ্ছে? তারা বলছেন, হাসপাতালগুলোতে নমুনা পরীক্ষা করাতে গিয়ে আগের মতো ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। আবার অনেকেই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরীক্ষা করার জন্য নমুনা দিতেও পারছেন না।

এক বছর পরে এসেও এই ভোগান্তি আরও ঝুঁকি বাড়াবে কিনা প্রশ্নে কোভিড-১৯ বিষয়ক জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আজ দেশের মহামারির ইতিহাসে একদিনে সর্বোচ্চ রোগী শনাক্ত হয়েছেন পাঁচ হাজার ১৮১ জন, এটা অনেক বড় সংখ্যা। করোনার কী অবস্থা সেটা বোঝার জন্য এই সংখ্যা ভয়ানক নির্দেশনা দেয়। আর তার ভেতরে যদি মানুষ পরীক্ষা করাতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়ে, নমুনা পেতে যদি পাঁচ দিন লাগে, তাহলে কিন্তু এটা ভবিষ্যতে আরও ভয়ানক হয়ে দেখা দেবে। কারণ, যারা নমুনা পরীক্ষা করতে গিয়েছেন তাদের মধ্যে অনেকেই পজিটিভ হবেন। আর এই মানুষগুলো যদি পরীক্ষার রিপোর্ট না পেয়ে আইসোলেশনে না যান, যদি স্বাভাবিকভাবে ঘুরে বেড়ান, সর্বনাশ হতে আর কিছু বাকি থাকবে না।’

অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, ‘একইসঙ্গে এতদিন পরে এসেও মানুষ ভোগান্তিতে পড়ছেন, এটা হওয়ার কথা নয়। এখনও মনোযোগ দিয়ে কাজ হচ্ছে না, দায়সারা কাজ চলছে এটা তার উদাহরণ। এটা অত্যন্ত বড় একটা নেগলিজেন্স। তিনি বলেন, ‘করোনা পজিটিভ মানুষগুলো ঘুরে বেড়ালে তাদের কারণে অন্যরাও সংক্রমিত হবেন। শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজের ভাইরোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. জাহিদুর রহমান বলেন, এক বছর পরে এসে এটা হওয়ারই কথা না। অবাক লাগছে এখনও এই সমস্যা রয়ে গেছে। যারা পজিটিভ তারা যদি সময়মতো না জানেন এবং সতর্ক হতে না পারেন, তাহলে থেকে অন্যরা সংক্রমিত হবেন।’

নিজের হাসপাতালের নমুনা পরীক্ষার উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, গত কয়েকদিনে কোনও পরিবারের কেউ আক্রান্ত হলে তার পরিবারের অন্যদের পরীক্ষা করার পর তাদেরও পজিটিভ পাওয়া যাচ্ছে। আর এটাই এখন বেশি হচ্ছে, একই পরিবারের বেশিরভাগ সদস্যকেই পজিটিভ পাওয়া যাচ্ছে। আর নমুনা পরীক্ষা দেওয়ার একদিন পরের বদলে যদি পাঁচ দিন পরে পায়, তাহলে তো বাসার অন্যদের মাঝে সেটা সংক্রমিত হবেই। তেমনি তিনি বাসার বাইরে গেলেও অন্যদের সংক্রমিত করবেন।

তাই করোনার নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট দ্রুত দেওয়ার কোনও বিকল্প নাই বলেন ডা. জাহিদুর রহমান। নমুনা দেওয়ার পরও ফলাফল পেতে কেন এত দেরি হচ্ছে, সময়মতো কেন পাওয়া যাচ্ছে না জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ও মিডিয়া সেলের প্রধান অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘অতিরিক্ত নমুনা আসছে। এতো নমুনা ল্যাবগুলোর ক্যাপাসিটির বাইরে। আর গত ১০ দিন বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। যেহেতু ক্যাপাসিটির বাইরে অনেক বেশি নমুনা সংগৃহীত হয়েছে তাই ফলাফল দিতে দেরি হয়েছে। তবে ধীরে ধীরে এটা হয়তো কাটিয়ে ওঠা যাবে।’

তিনি বলেন, ‘এখন ২৬ থেকে ২৮ হাজার নমুনা পরীক্ষা হচ্ছে দিনে, যেটা আগে হয়নি। এতো টেস্ট করার পরও রিপোর্ট দেওয়া যাচ্ছে না। তার মানে নমুনা অনেক বেশি সংগৃহীত হচ্ছে। তবে নমুনা দেওয়ার পর থেকেই সবাই আইসোলেশনে বা কোয়ারেন্টিনে থাকবেন জানিয়ে অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা বলেন, ‘যারা নমুনা দিচ্ছেন তারা তো সবাই সন্দেহভাজন। তাদের সবাইকে ফলাফল না পাওয়া পর্যন্ত আইসোলেশনে থাকতে হবে।’