আজকের দিন তারিখ ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২০, মঙ্গলবার, ৭ আশ্বিন, ১৪২৭
সর্বশেষ সংবাদ
অর্থ ও বাণিজ্য এক বছর পর পাঁচ হাজার পয়েন্টের ঘরে ডিএসইএক্স

এক বছর পর পাঁচ হাজার পয়েন্টের ঘরে ডিএসইএক্স


পোস্ট করেছেন: Dinersheshey | প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২০ , ১২:৪৮ অপরাহ্ণ | বিভাগ: অর্থ ও বাণিজ্য


দিনের শেষে প্রতিবেদক : প্রায় এক বছর পর ৫ হাজার পয়েন্টের ঘরে থেকে দিনের লেনদেন শেষ করল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স। গতকাল সূচকটি একবার ৫ হাজার পয়েন্ট ছুঁয়েছিল বটে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা ধরে রাখতে পারেনি। দশমিক ৭৯ শতাংশ উত্থানের পাশাপাশি ৫ হাজার ১১ পয়েন্ট নিয়ে সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসের লেনদেন শেষ করেছে ডিএসইএক্স। দেশের আরেক শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) প্রধান সূচক সিএসসিএক্স বেড়েছে দশমিক ৬২ শতাংশ।
সর্বশেষ গত বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর ৫ হাজার পয়েন্টে ছিল ডিএসইএক্সের অবস্থান। এরপর তা কমতে কমতে একেবারে তলানিতে নেমে আসে। বিশেষ করে নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবজনিত অনিশ্চয়তায় বিনিয়োগকারীদের আস্থা হারাতে থাকে পুঁজিবাজার। গত বছরের ১৮ মার্চ ৩ হাজার ৬০৪ পয়েন্টে নেমে আসে ডিএসইএক্স। অবস্থা এমন দাঁড়ায় যে, শেষ পর্যন্ত নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে হস্তক্ষেপ করতে হয়।
করোনা পরিস্থিতির কারণে দুই মাসের বেশি সময় বন্ধ থাকার পর আবার লেনদেনে ফেরে শেয়ারবাজার। এরপর কখনো উত্থান, কখনও পতনের মধ্য দিয়ে চলছিল লেনদেন। কিন্তু ৫ হাজার পয়েন্টের মনস্তাত্তি¡ক অবস্থানে পৌঁছতে পারছিল না সূচক। অবশেষে আজ সেই অবস্থানে পৌঁছল বাজার।
আজ ৪ হাজার ৯৭১ পয়েন্ট নিয়ে লেনদেন শুরু করে ডিএসইএক্স। শেষ পর্যন্ত ৫ হাজার ১১ পয়েন্টে নিয়ে দিনের লেনদেন শেষ করেছে ডিএসইএক্স, যা গতকালের চেয়ে ৪০ পয়েন্ট বা দশমিক ৭৯ শতাংশ বেশি। ডিএসইর শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস আজ প্রায় ১২ পয়েন্ট বা ১ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ১৫৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, যা আগের দিন শেষে ছিল ১ হাজার ১৪৬ পয়েন্ট। ডিএসইর বøু চিপ সূচক ডিএস-৩০ দিনের ব্যবধানে প্রায় ১৩ পয়েন্ট বা দশমিক ৭৭ শতাংশ বেড়ে আজ লেনদেন শেষে ১ হাজার ৭৪০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, গতকাল যা ছিল ১ হাজার ৭২৭ পয়েন্ট।
আজ ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩৫৬টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের মধ্যে দিনশেষে দর বেড়েছে ১৯০টির, কমেছে ১১৭টির, আর অপরিবর্তিত ছিল ৪৯টি সিকিউরিটিজের বাজারদর।
খাতভিত্তিক পর্যালোচনায় দেখা যায়, আজ ডিএসইতে মোট লেনদেনের ২২ শতাংশ দখলে নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে ওষুধ খাত। ১১ শতাংশ দখলে নিয়ে এরপর রয়েছে প্রকৌশল খাত। এছাড়া ৮ শতাংশ দখলে নিয়ে যৌথভাবে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ব্যাংক, ব্যাংক-বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও সাধারণ বীমা খাত।
ডিএসইতে আজ লেনদেনে শীর্ষে ছিল বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড, বাংলাদেশ এক্সপোর্ট ইমপোর্ট কোম্পানি (বেক্সিমকো) লিমিটেড, ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেড, ওরিয়ন ফার্মা লিমিটেড, ওরিয়ন ইনফিউশন লিমিটেড, ডেল্টা ব্র্যাক হাউজিং ফিন্যান্স করপোরেশন লিমিটেড, ফু ওয়াং ফুড লিমিটেড, গ্রামীণফোন লিমিটেড, ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড ও স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড।
এক্সচেঞ্জটিতে আজ সমাপনী দরের ভিত্তিতে দরবৃদ্ধিতে শীর্ষ ১০ সিকিউরিটিজের তালিকায় রয়েছে হাক্কানি পাল্প অ্যান্ড পেপার মিলস লিমিটেড, ওরিয়ন ইনফিউশন লিমিটেড, ইনফরমেশন সার্ভিসেস নেটওয়ার্ক লিমিটেড, প্রভাতী ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড, বিকন ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড, এডিএন টেলিকম লিমিটেড, ন্যাশনাল পলিমার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, বিডি ফিন্যান্স, অগ্রণী ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড ও মিরাকল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড।
এদিকে আজ ডিএসইতে দরপতনের তালিকায় শীর্ষ ১০ সিকিউরিটিজ হলো- প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড, এলআর গ্লোবাল বাংলাদেশ মিউচুয়াল ফান্ড ওয়ান, প্রাইম ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড, ইউনাইটেড ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড, এনএলআই ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, রিপাবলিক ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড, এশিয়া ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড, প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড, গেøাবাল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড ও ড্যাফোডিল কম্পিউটার্স লিমিটেড।
দেশের আরেক শেয়ারবাজার সিএসইতে আজ প্রধান সূচক সিএসসিএক্স দিনের ব্যবধানে প্রায় ৫৩ পয়েন্ট বেড়ে ৮ হাজার ৬০২ পয়েন্টে অবস্থান করছে। গত কার্যদিবসে সূচকটির অবস্থান ছিল ৮ হাজার ৫৪৯ পয়েন্টে। এদিন এক্সচেঞ্জটিতে লেনদেন হওয়া ২৭৩টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১৪৭টির, কমেছে ৮৩টির, আর অপরিবর্তিত ছিল ৪৩টির বাজারদর।
আজ ডিএসইতে টাকার অংকে লেনদেন সামান্য কমলেও সিএসইতে তা বেড়েছে। ডিএসইতে আজ মোট ১ হাজার ২৪ কোটি ৫৪ লাখ টাকার সিকিউরিটিজ হাতবদল হয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ১ হাজার ৭৭ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। অন্যদিকে সিএসইতে আজ ২৯ কোটি ২২ লাখ টাকার সিকিউরিটিজ লেনদেন হয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ২৮ কোটি ৮২ লাখ টাকা।