আজকের দিন তারিখ ২৫শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, বুধবার, ১০ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
সম্পাদকীয় ই-কমার্স ব্যবসায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা জরুরি

ই-কমার্স ব্যবসায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা জরুরি


পোস্ট করেছেন: Dinersheshey | প্রকাশিত হয়েছে: নভেম্বর ৫, ২০২০ , ১২:২৫ অপরাহ্ণ | বিভাগ: সম্পাদকীয়


অনলাইন লেনদেনে গ্রাহকদের আগ্রহ যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে এ খাতের উদ্যোক্তা। এই খবরটি অবশ্যই ইতিবাচক। তবে অগ্রগতির পাশাপাশি প্রতারণার মাত্রাও কম নয়। সর্বশেষ ই-কমার্সের নামে প্রতারণার মাধ্যমে ২৬৮ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে এসপিসি ওয়ার্ল্ড লিমিটেড নামের এক মাল্টিলেভেল মার্কেটিং (এমএলএম) কোম্পানির ছয় ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাইবার এন্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের একটি টিম বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করেছে। অনলাইন লেনদেন প্রতারণা নাকি আস্থার জায়গাÑ এমন প্রশ্ন সামনে আসছে বারবার। জানা গেছে, এসপিসি ওয়ার্ল্ড লিমিটেডের প্রধানের নাম আল আমিন প্রধান। ১০ মাস আগে তিনি প্রথমে একটি অ্যাপস দিয়ে এই ব্যবসা শুরু করেন। এরপর দেশি-বিদেশি ২২ লাখ মানুষ তার মাধ্যমে প্রতারিত হয়। আল আমিন প্রধান একসময় ডেসটিনি-২০০০ লিমিটেডে সক্রিয় ছিলেন। ডেসটিনি বন্ধ হয়ে গেলে তিনি একই ব্যবসাপদ্ধতি অনুসরণ করে অনলাইনভিত্তিক প্রতারণা শুরু করেন। তারা সম্মিলিতভাবে মাত্র ১০ মাস সময়ের মধ্যে উচ্চ কমিশনের প্রলোভনে মোট ২২ লাখ ২৬ হাজার ৬৬৮ সদস্যের আইডি থেকে প্রায় ২৬৮ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। তাদের ব্যবসা কার্যক্রম অনলাইন অ্যাপভিত্তিক হওয়ায় বাইরেও ১৭টি দেশে থাকা বাংলাদেশি প্রবাসী ও বিদেশি মিলিয়ে প্রায় ৫ লাখ সদস্য রয়েছেন। এসব গ্রাহক এখন অনিশ্চয়তায় ভুগছে। এ নিয়ে সরকারের বিভিন্ন সংস্থা এসপিসি ওয়ার্ল্ড লিমিটেডের কার্যক্রম খতিয়ে দেখছে। এর আগে ইভ্যালি নামে আরেকটি ই-কমার্স সাইট নিয়ে ব্যাপক অনিয়মের খবর আসে। এসপিসি ওয়ার্ল্ড লিমিটেড ও ইভ্যালির বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ আসার পরই নতুন করে ই-কমার্স খাত নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা সামনে আসছে। অনলাইন ব্যবসা প্রসার ইতিবাচক হলেও সময় এসেছে এই ব্যবসাকে একটি নির্দিষ্ট নীতিমালার মধ্যে আনা জরুরি। ডিজিটাল যুগে গ্রাহকদের পণ্যের চাহিদার ওপর ভিত্তি করে খোলা হচ্ছে নানারকম অনলাইন শপ। বলা চলে, নাগরিক জীবনযাপনে অনলাইন কেনাকাটা এখন যুক্ত হয়ে আছে। স্মার্ট জীবনযাপনে সময় বাঁচাতে ও প্রয়োজনে শহরের পাশাপাশি মফস্বলেও এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। এ তালিকায় রয়েছে গহনা, পোশাক, মুঠোফোন, চাল, ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, প্রস্তুত করা খাবার, বই, ইলেকট্রনিক সামগ্রী, ওষুধ ইত্যাদি। শুধু পোশাক বা গহনা নয়, বাড়ির জন্য চাল, ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় নানা পণ্য এখন অনলাইনে কিনছেন। ই-কমার্স ওয়েবসাইটের বাইরেও ফেসবুকে বিভিন্ন পেজ খুলে বেচাকেনা করছেন অনেকে। ই-কমার্স নিয়ে বিশাল বাজার গড়ে উঠেছে। অনলাইনে কেনাকাটা নিয়ে অনেকে সন্তোষ প্রকাশ করলেও এ নিয়ে অভিযোগও রয়েছে বিস্তর। যারা ই-কমার্সের নামে প্রতারণা করছে, তাদের বিরুদ্ধে সরকারকে ব্যবস্থা নিতে হবে। জনস্বার্থ চিন্তা করতে হবে। এখানে ট্রেড লাইসেন্স ছাড়া এবং বিনা স্ট্যাবলিশমেন্টে ব্যবসা করা হচ্ছে। এতে সরকার যথেষ্ট রাজস্ব হারাচ্ছে। ২০০৯ সালে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন জারি করা হয়েছে। এই আইনের উদ্দেশ্যÑ কোনো ক্রেতা কোনোভাবে প্রতারিত যাতে না হয় এবং আইনত নিষিদ্ধ পণ্য বিক্রি করা না হয় কিংবা সরবরাহসহ ব্যবস্থায় ক্রেতার কোনো ক্ষতি না হয় ইত্যাদি। এই আইনের বাস্তবায়ন জরুরি।