আজকের দিন তারিখ ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২১, শুক্রবার, ১৩ ফাল্গুন, ১৪২৭
সর্বশেষ সংবাদ
সম্পাদকীয় অভিনন্দন

অভিনন্দন


পোস্ট করেছেন: Dinersheshey | প্রকাশিত হয়েছে: ফেব্রুয়ারি ১, ২০২১ , ১২:৫৯ অপরাহ্ণ | বিভাগ: সম্পাদকীয়


দেশের ইতিহাসে কোনো পাবলিক পরীক্ষার এবারই প্রথম শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছেন। ১৩ লাখ ৬৭ হাজার ৩৭৭ শিক্ষার্থীর সবাই অনায়াসে পার হয়েছেন উচ্চ মাধ্যমিকের চৌকাঠ। করোনা মহামারির কারণে ২০২০ সালের উচ্চ মাধ্যমিক ও সমমান পরীক্ষা গ্রহণ করা সম্ভব না হওয়ায় এই ব্যাচের পরীক্ষার্থীদের আগের দুটি পাবলিক পরীক্ষার (জেএসসি ও এসএসসি) ফল গড় করে গত শনিবার এ ফল প্রকাশ করা হয়েছে। আমরা কৃতকার্য শিক্ষার্থীসহ শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট সবাইকে জানাই আন্তরিক অভিনন্দন। ফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মহামারিকালে পরীক্ষা ছাড়াই আগের পরীক্ষার ভিত্তিতে এবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের ৩৬ দশমিক ৫৫ শতাংশ ‘এ’ গ্রেড পেয়েছেন। জিপিএ ৫ পেয়েছেন ১ লাখ ৬১ হাজার ৮০৭ জন, যা মোট পরীক্ষার্থীর ১১ দশমিক ৮৩ শতাংশ। উত্তীর্ণদের মধ্যে সবচেয়ে বেশিসংখ্যক অর্থাৎ ৪ লাখ ৯৯ হাজার ৭৪০ শিক্ষার্থী ‘এ’ গ্রেড পেয়েছেন। এ ছাড়া ২২ দশমিক ২৪ শতাংশ শিক্ষার্থী ‘এ মাইনাস’, ১৫ দশমিক ৯৪ শতাংশ শিক্ষার্থী ‘বি’, ১২ দশমিক ৭৯ শতাংশ শিক্ষার্থী ‘সি’ এবং শূন্য দশমিক ৬৪ শতাংশ শিক্ষার্থী ‘ডি’ গ্রেড পেয়েছেন। একযোগে ১১টি শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশের মধ্য দিয়ে দেশের পৌনে ১৪ লাখ শিক্ষার্থীর অপেক্ষার অবসান ঘটল। তবে শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করায় এবার দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ভর্তিযুদ্ধ তীব্র হবে। বরাবরের মতো এবারো বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ ৫ পেয়েছে সর্বাধিক। তাই মেডিকেল ও প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তিতে তীব্র প্রতিযোগিতা হবে। বেশিরভাগ মেধাবীই এবার কাক্সিক্ষত প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে পারবেন না। এ সমস্যার সমাধানে মানসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বাড়ানোর দিকে নজর দিতে হবে। বিশেষ করে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আসন সংখ্যা বৃদ্ধির কথা ভাবতে হবে। আমাদের প্রত্যাশা, একটি শিক্ষিত জাতি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তাদের এই সাফল্য অবদান রাখবে। সুনাগরিক হওয়ার পথে জোগাবে অনুপ্রেরণা। আশার খবর, সরকারি উদ্যোগে এবার বেশিরভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ই গুচ্ছ পদ্ধতির আওতায় আসছে। কাজেই শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ছোটাছুটি কিছুটা কমবে। তবে ১৯৭৩ সালের অধ্যাদেশে পরিচালিত চারটিসহ আট বিশ্ববিদ্যালয় থাকছে এই পদ্ধতির বাইরে। প্রায় এক যুগ ধরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ও পরীক্ষা কমানোর চেষ্টা করে আসছে। কিন্তু নানা অজুহাতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এড়িয়ে গেছে। প্রশ্নপত্র ফাঁস ও ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতি বন্ধে গুচ্ছ পদ্ধতি কার্যকর ভ‚মিকা রাখতে পারবে। অর্থাৎ সব বিবেচনায়ই এ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষার সিদ্ধান্তটি ইতিবাচক। এখন এর যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করাটাই বড় বিষয়। আমরা আশা করব, দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে গুচ্ছভিত্তিক ভর্তি পরীক্ষা পদ্ধতি চালু করতে সংশ্লিষ্টরা যথাযথ পদক্ষেপ নেবেন।