আজকের দিন তারিখ ৭ই জুন, ২০২০ ইং, রবিবার, ২৪শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
রাজনীতি করোনায়ও চলছে দোষারোপের রাজনীতি!

করোনায়ও চলছে দোষারোপের রাজনীতি!


পোস্ট করেছেন: dinersheshey | প্রকাশিত হয়েছে: মে ৬, ২০২০ , ৩:১১ অপরাহ্ণ | বিভাগ: রাজনীতি


দিনের শেষে প্রতিবেদক : দেশে রাজনৈতিক দলের অভাব নেই। আর এসব দলে নেতাকর্মীরও অভাব নেই। কিন্তু সারাবিশ্বে মহামারীর রূপ নেয়া করোনাভাইরাসের দুর্যোগের সময় দেশে দুই-একটি রাজনৈতিক দল ছাড়া অন্য দল এবং ওই সব দলের নেতাকর্মীদের দেখা মিলছে না। আর নির্বাচনে যেসব নেতারা কোটি কোটি টাকা খরচ করেছেন, এই দুর্যোগের সময় ত্রাণ বিতরণে সেসব নেতাদের কোন অংশগ্রহণ নেই বললেই চলে। বরং এক দল আরেক দলের প্রতি দোষারোপ করছে, চলছে দোষারোপের রাজনীতি। তবে কিছু কিছু জায়গায় আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির নেতাকর্মীদেরকে দুস্থ মানুষদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করতে দেখা গেলেও দেশের অন্য রাজনৈতিক দলগুলোকে তেমন দেখা যায়নি। সুতরাং বলা যায় যে, দেশের রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা বড় বড় কথা বলতে পারলেও তারা (রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা) কাজের বেলায় ঠনঠন। এবিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক রাজনৈতিক নেতা এই প্রতিবেদককে বলেন, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের কথা বাদ দিলাম। কিন্তু জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ৩শ’ প্রার্থী এবং বিএনপির ৩শ’ প্রার্থী শত শত কোটি টাকায় খরচ করে ভোট করেছেন। সেই সকল প্রার্থীরা জাতীয় দুর্যোগের সময় কোথায় আছেন? এই দুর্যোগের সময় শুধু মাত্র আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থীরা এগিয়ে আসলে দেশে দুস্থ মানুষদের খাদ্য সঙ্কট হবে না। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, আমরা এই দুর্যোগের মধ্যে রাজনৈতিক কাঁদা ছোড়াছুড়িতে লিপ্ত হতে চাই না। তারপরেও বিএনপি নেতারা ঘরবন্দী খেটে খাওয়া মানুষের পাশে না দাঁড়িয়ে একের পর এক মিথ্যাচার, বিভ্রান্তিমূলক মন্তব্য করে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির অপপ্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছেন। এবিষয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বিএনপি রাজধানীসহ সারাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে কর্মহীন মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে জরুরী খাদ্য সহযোগিতা নিয়ে। ইতিমধ্যে ত্রাণ যে বিতরণ করা হয়েছে তা সারাদেশে ১২ লাখে পৌঁছেছে। এদিকে করোনাভাইরাস বিস্তার রোধে কাজের চেয়ে বেশি কথা বলেছেন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা। যেমন আওয়ামী লীগ বলেছে, বিএনপি কিছুদিন পর পর জাতীয় দুর্যোগ টাস্ক ফোর্স গঠনের কথা বলে, তারপর জাতীয় সরকার গঠনের কথা বলে, এটা তো একটা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বক্তব্য। এটা আজকের সংকটের, করোনা প্রতিরোধের দায়িত্ব থেকে একবারেই বিচ্যুত। অন্যদিকে বিএনপি বলছে, আওয়ামী লীগ সরকারের জবাবদিহিতা না থাকায় লকডাউন তুলে দিয়ে দেশকে ভয়ংকর পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যাচ্ছে। প্রতি ক্ষেত্রে তাদের অদূরদর্শিতা, সমন্বয়হীনতা এবং চরম উদাসীনতার প্রমাণ। এর পরিণতির জন্য এ সরকারকে এককভাবেই দায়ী থাকতে হবে। এবিষয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, সরকার কোথায়? সরকার এখন রাস্তাতেও নেই। অর্থাৎ গোড়ায়-আগায়, মনে-গোপনে, কার্যালয়ে নেই। সরকার এক জায়গায় আছে, শুধু টেলিভিশনে। আর কিন্তু তারা কোথাও নেই। ওবায়দুল কাদের বলেন, সরকার কি করেছে বা করছে, তা বিএনপিকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখোনোর প্রয়োজন নেই। ফোর্বস, ইকোনোমিস্টসহ প্রেস্টিজিয়াস বিশ্ব সাময়িকীগুলোতে শেখ হাসিনার নেতৃত্বের এবং তার সরকারের কর্মকাণ্ডের ভূয়সী প্রশংসা করা হচ্ছে। শেখ হাসিনা প্রচারে বিশ্বাসী নন, তিনি কাজে বিশ্বাসী। আর বিএনপির রাজনীতি এখন টেলিভিশননির্ভর। সরকার অনেক টিভি চ্যানেলের অনুমতি দিয়েছে বলেই বিএনপি অস্তিত্ব প্রকাশের সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছে। টেলিভিশন না থাকলে বিএনপি একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে আরো গুরুত্বহীন হয়ে পড়তো। এবিষয়ে তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, এখন রাজনীতি করার সময় নয়, একে অপরকে দোষারোপ করার সময় নয়, এখন সময় হচ্ছে সব রাজনৈতিক দল মিলে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে এ মহাদুর্যোগ মোকাবেলা করা। বিএনপিসহ সকল রাজনৈতিক দলের প্রতি আমি আহ্বান জানাবো, আসুন অন্য রাজনীতি নয়, আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে জনগণকে সুরক্ষা দেবার রাজনীতিটাই করি।