আজকের দিন তারিখ ৭ই জুন, ২০২০ ইং, রবিবার, ২৪শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
প্রবাসে বাংলা উড়িষ্যায় আটকে পড়েছে অসহায় ৮ বাংলাদেশি

উড়িষ্যায় আটকে পড়েছে অসহায় ৮ বাংলাদেশি


পোস্ট করেছেন: dinersheshey | প্রকাশিত হয়েছে: মে ১৭, ২০২০ , ৬:০৮ পূর্বাহ্ণ | বিভাগ: প্রবাসে বাংলা


দিনের শেষে ডেস্ক : ভারতে করোনা মোকাবিলায় চলমান লকডাউনের মধ্যেই দেশটির উড়িষ্যা রাজ্যের মালকানগিরি জেলায় আটকা পড়েছেন ৮ বাংলাদেশি নাগরিক। এদের মধ্যে তিন জন নারী।
একদিকে তাদের ভিসার মেয়াদ শেষ, অন্যদিকে হাতে থাকা ভারতীয় রুপিও শেষ হওয় গেছে। ফলে খাদ্য সমস্যায় পড়েছেন তারা। ভারত ও বাংলাদেশ সরকারের কাছে তাদের আর্জি, অবিলম্বে যেন তাদের দেশে ফেরানো হয়।
কলকাতা থেকে আমাদের প্রতিনিধি জানাচ্ছেন, বাংলাদেশের খুলনা জেলার ওই আট বাংলাদেশি উড়িষ্যার মালকানগিরি জেলার পোতেরু এলাকায় এসেছিলেন দোল পূর্ণিমাসহ কয়েকটি ধর্মীয় উৎসবে যোগ দিতে। এর পাশাপাশি ওই অঞ্চলে থাকা দূর সম্পর্কের কয়েকজন আত্মীয়স্বজনদের বাসায় ভ্রমণেরও উদ্দেশ্যে ছিল তাদের। কারণ ১৯৭০ এর শতকে বহু বাংলাদেশি উদ্বাস্তুদের এই মালকানগিরিতে পুনর্বাসন দেওয়া হয়েছিল।
গত ৮ জানুয়ারী পশ্চিমবঙ্গের ঘোজাডাঙ্গা সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করে ওই বাংলাদেশিরা। এরপর সড়ক পথে ১১ জানুয়ারী তারা মালকানগিরিতে পৌঁছায়।
গত ২১ ফেব্রুয়ারী কাঙ্গোরুকোন্ডাতে শিবরাত্রি উপলক্ষে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেন তারা। গত ৯ মার্চ দোল পূর্ণিমার একটি অনুষ্ঠানেও যোগ দেয়। এরপরই তারা দেশে ফিরে আসার পরিকল্পনা করেন।
কিন্তু এরই মধ্যে করোনার আবহে গত ২২ মার্চ ভারতে জনতার কারফিউর ডাক দেওয়া হয়। আর করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে গত ২৫ মার্চ থেকে গোটা ভারতে জারি করা হয় লকডাউন। এই অবস্থায় মালকানগিরিতেই আটকে পড়ে ওই বাংলাদেশি পর্যটকরা।
এরই মধ্যে গত ৮ এপ্রিল তাদের ভারতে থাকার ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। পরে ভুবনেশ্বওে ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিসে গিয়ে ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন জানানো হয় এবং তা বাড়িয়ে ৩১ এপ্রিল পর্যন্ত করা হয়। এই সময় মালকানগিরি জেলা প্রশাসনের তরফেই তাদের রেশনসহ অন্য অত্যাবশ্যকীয় পণ্য সরবরাহ করা হচ্ছে।
কিন্তু তাদের ভারতে আটকে পড়ার বিষয়টি আন্তর্জাতিক ইস্যু হওয়ার কারণে জেলা প্রশাসনের তরফেও তাদের দেশে ফেরানোর ব্যাপারে এখনও কোন সদর্থক ভূমিকা নিতে পারে নি। ওই ৮ বাংলাদেশি নাগরিক এই মুহুর্তে জেলার মালকানগিরির কালিমেরা এমভি ৯০ গ্রামে অবস্থান করছেন।
আটকে পড়া বাংলাদেশিরা হলেন কালিদাস সরকার (৬০), তার স্ত্রী সবিতা সরকার (৫৫) এবং তাদের কন্যা চৈতালি সরকার (২৩); রসময় রায় (৫৫) ও তার স্ত্রী রীতা রায় (৪৫); সুবীর কান্তি বিশ্বাস (৫২) প্রদীপ মণ্ডল (৩৬) এবং রথীন্দ্র নাথ সরদার (৩৮)।
রসময় রায় জানান, ‘আমরা বাংলাদেশের বাসিন্দা। গত ৮ জানুয়ারী আমরা ভারতে আসি। সেইদিন থেকেই আমরা ভারতে রয়েছি। জনতার কারফিউর পর আমরা একদিন ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বাসায় আত্মীয় পরিজনদের সাথে কথা বলি। কিন্তু লকডাউন শুরুর পর গত প্রায় দুই মাস ধরে আমরা মালকানগিরিতেই আটকা পড়েছি। এখানে প্রচণ্ড গরম ও খাওয়ার সমস্যা হচ্ছে।’
একসম কাঁদতে কাঁদতে তিনি বলেন, ‘কোনও পরিস্থিতিই নেই যে আমরা এখন দেশে ফিরে যেতে পারি।’
তার মেয়ে চৈতালি সরকার জানান,‘দীর্ঘদিন ধরে লকডাউনে আমরা আটকে আছি। এদিকে দেশেও বাসার সকলে কান্নাকাটি করছে, তারা যথেষ্ট উদ্বেগের মধ্যে আছেন। এখানে আমরা ৮ জন সদস্য আছি এবং প্রত্যেকেরই পরিবার আছে। আমাদের কাছে কোন অর্থও নেই। ফলে আর্থিক দিক থেকেও আমরা খুব সমস্যায় আছি। ভারত সরকার ও বাংলাদেশ সরকারের কাছে আমার বিনীতি নিবেদন যে করেই হোক আমাদের যেন বাংলাদেশ পৌঁছনোর ব্যবস্থা করা হয়।’
মালকানগিরির জেলাশাসক মণীশ আগরওয়াল জানান, ওদের ভিসার মেয়াদ বাড়িয়ে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত করা হয়েছিল। পরবর্তীতে আবারও সেই মেয়াদ বাড়ানোর সংস্থান রয়েছে। যেহেতু এটা আন্তর্জাতিক বিষয় তাই তাদের দেশে ফেরার জন্য আইন মেনে আবেদন করতে হবে এবং সেটিকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে তা পাঠানো হবে। এরপর মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ মেনে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এমন অবস্থায় ওই বাংলাদেশিরা বাংলাদেশ মিশনের সাথেও যোগাযোগ করেছেন বলে জানা গেছে। কিন্তু বাংলাদেশ মিশনের তরফে তাদেরকে বিমানের টিকিট কাটতে বলা হয়েছে।
এ নিয়ে ভারতে আটকে পড়াদের বক্তব্য, তাদের কাছে অত রুপি দিয়ে বিমানের টিকিট কেনার ক্ষমতা নেই। জমানো অর্থ শেষ হওয়ার কারণে গাড়ি ভাড়া করে মালকানগিরি থেকে বাংলাদেশ সীমান্ত পর্যন্ত যাওয়ার মতো অর্থনৈতিক অবস্থাও তাদের নেই।